মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

ছাবিবশার গণহত্যা

ভূঞাপুর সদর থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ছাবিবশা গ্রাম। বর্তমানে এটিভূঞাপুর পৌরসভার অধীনে। গ্রামটি মুক্তিযুদ্ধের সময় গোবিন্দাসী ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৯৭১ খ্রিস্টব্দে ছাবিবশা গ্রামে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের এক খন্ডযুদ্ধ সংঘটিত হয় এবং যুদ্ধ শেষে পাকিস্তানি বাহিনীরা গ্রামটিতে গণহত্যা চালায়।

 

১৭ নভেম্বর, ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে ছাবিবশা গ্রামের সেই নির্মম, বিভীষিকাময়, অবিস্মরণীয় দিন। সেদিন বেলা আনুমানিক এগারো ঘটিকায় সিরাজগঞ্জ থেকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যমুনা নদী পাড় হয়ে গাবসারার কালিপুর, সেখান থেকে  গোবিন্দাসী আসে। এরপর শালদাইর দিয়ে এগিয়ে আসে পাকিস্তানি সেনাদের একটি দল। অবস্থান নেয় ছাবিবশার পশ্চিম পাশে শালদাইর ব্রিজের কাছে।

 

পাকিস্তানি সেনাদের অপর একটি দল কালিপুর থেকে  উত্তর-পূর্বদিকে এগিয়ে কালিগঞ্জ, জিগাতলা-বাগবাড়ি হয়ে খুপিবাড়ির খাল ধরে ছাবিবশার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থান নেয়। হানাদারদের এ অবস্থান ছিল অতর্কিত অথচ পরিকল্পিত। তারা ছাবিবশার পশ্চিম প্রান্তে পৌঁছুলেই মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়। এসব মুক্তিযোদ্ধা গাবসারা কালিগঞ্জে অবস্থান করছিলেন। কালিপুর ঘাটে জাহাজ থেকে হানাদারদের নেমে আসার সংবাদ পেয়ে কালিগঞ্জে অবস্থানরত মুক্তিযোদ্ধারা পূর্ব দিকে সরে বাধা দেওয়ার সুবিধাজনক স্থান হিসেবে ছাবিবশাতে এসে অবস্থান নেন। মুক্তিযোদ্ধা ও হানাদার বাহিনীর মধ্যে চলে প্রচন্ড গুলি বিনিময়। বিকেল প্রায় চারটা পর্যন্ত উভয় পক্ষে গুলিবর্ষণ চলে। এক পর্যায়ে হানাদারদের প্রচন্ড আক্রমণে মুক্তিযোদ্ধারা টিকতে না পেরে সরে যায়।

 

মুক্তিযোদ্ধারা সরে গেলে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীরা ছাবিবশা গ্রামে র্নিমম গণহত্যা চালায়। ১৯৭১ খ্রিস্টব্দের ১৭ নভেম্বর ছাবিবশার গ্রামের যারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক গণহত্যার শিকার হয়েছিলেন  তাদের নামঃ

 

১.    বিশা মন্ডল                       পিতা-ইসমাইল মন্ডল

২.   মনির উদ্দিন                     পিতা- ইয়াসীন আলী

৩.   ওমর আলী                       পিতা- পান্ড সরকার

৪.   সাজেদা বেগম                   স্বামী-ওমর আলী

৫.   রাবেয়া খাতুন                    পিতা- ওমর আলী

৬. খালেদা খাতুন                     নানা- ওমর আলী

৭.   ইসমাইল হোসেন                পিতা- কিতাবুল্লাহ

৮.   মমতাজ উদ্দিন                  পিতা- কিতাবুল্লাহ

৯.   শমসের আলী                    পিতা- আহসান আলী

১০.মছিরন নেছা                     স্বামী- ময়েজ শেখ

১১. আয়নাল হক                      (আব্দুল জুববার মুন্সীর দিনমজুর)

১২. হাফেজ উদ্দিন                    পিতা- গোল হোসেন

১৩. দানেছ আলী                     পিতা- বছির উদ্দিন সরকার

১৪. তাছেন আলী                     পিতা- বছির উদ্দিন সরকার

১৫. হায়দার আলী                    পিতা- দানেছ আলী

১৬.  সেকান্দার আলী                 পিতা- নতিবুল্লাহ

১৭. রমজান আলী                     পিতা- সেকান্দার আলী

১৮. কোরবান আলী                   পিতা- আয়েতুল্লাহ (গাবসারা বিশ্বনাথপুর)

১৯. মাহমুদ আলী                     পিতা- ময়েজ  শেখ

২০. আবুল হোসেন                    (সিরাজ আলী দিনমজুর,গ্রাম-রুহুলী)

২১. ইউসুফ আলী                     পিতা- আব্দুল জুববার মুন্সী

২২. শফিকুল ইসলাম                পিতা- আব্দুল জুববার মুন্সী

২৩. মোতালেব হোসেন               পিতা- আব্দুল জুববার মুন্সী

২৪. ইয়াকুব আলী                    পিতা- মাজম আলী

২৫. শুকুর মাহমুদ মন্ডল             পিতা- আব্দুস সোবাহান মন্ডল

২৬. বাহাজ উদ্দিন মন্ডল            পিতা- গোমর মন্ডল

২৭. আব্দুল গফুর                      পিতা- হাজী হোসেন আলী

২৮. রাবেয়া খাতুন                    স্বামী-আব্দুল শেখ

২৯. জহির উদ্দিন                     পিতা- জসিম উদ্দিন

৩০. সোনা উল্লাহ                      পিতা-সায়েদ আলী

৩১. সিরাজ আলী                     পিতা- ময়েজ সেখ

৩২. হোসনা খাতুন                    (ওমর আলীর আত্মীয়)

কিভাবে যাওয়া যায়:

সিএনজি ও রিক্সাযোগে।